চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ধনাগোদা শাখা নদীর ওপর নির্মিত লুধুয়া সেতুটি আজ স্থানীয় প্রশাসনের অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও চরম অবহেলার এক অনাকাঙ্ক্ষিত দৃষ্টান্তে পরিণত হয়েছে। প্রায় পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ হলেও দুই পাশে সংযোগ সড়ক (অ্যাপ্রোচ রোড) না থাকায় প্রায় আট মাস ধরে এটি কোনো কাজে আসছে না। ফলে সেতু থাকলেও স্থানীয়দের নদী পার হতে হচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশ-কাঠের মই বেয়ে, যা অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়।
সংযোগ সড়ক ছাড়া একটি সেতু তৈরি করে ফেলে রাখা স্পষ্টতই সরকারি অর্থের অপচয় ও দায়িত্বহীনতার পরিচয় দেয়। এই অব্যবস্থাপনার কারণে সংলগ্ন ১০টি গ্রামের প্রায় ২৫ হাজার মানুষ এবং স্থানীয় ৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থী প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মই বেয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন। ইতিমধ্যে শিক্ষার্থীসহ একাধিক মানুষ নিচে পড়ে গিয়ে হাত ভাঙাসহ গুরুতর দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। একটি সরকারের মৌলিক দায়িত্ব যেখানে জনগণের যাতায়াত ও জীবনযাত্রা সুগম করা, সেখানে প্রায় আট মাস ধরে এই দুর্ভোগ ঝুলিয়ে রাখা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও এলজিইডি কর্তৃপক্ষ ‘জায়গাসংক্রান্ত জটিলতা’ কিংবা ‘অধিগ্রহণের চেষ্টা চলছে’ বলে দায় এড়ানোর যে অজুহাত দিচ্ছে, তা মোটেও যৌক্তিক নয়। যেকোনো সেতু নির্মাণের আগে ভূমি অধিগ্রহণ ও সংযোগ সড়কের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা সাধারণ প্রক্রিয়ারই অংশ। কাজ শুরুর আগে এসব আইনি ও ভূমি জটিলতা কেন নিরসন করা হলো না, এই প্রশ্ন এড়ানোর সুযোগ নেই।
জনভোগান্তি দূর করতে এবং এই প্রকল্পের সুবিধা দ্রুত নিশ্চিত করতে অবিলম্বে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। স্থায়ী সংযোগ সড়ক নির্মিত না হওয়া পর্যন্ত স্থানীয়দের নিরাপদ চলাচলের জন্য অবিলম্বে টেকসই ও নিরাপদ বিকল্প অস্থায়ী চলাচলের রাস্তা তৈরি করা। ভূমিসংক্রান্ত সমস্যা নিরসনে এলজিইডি এবং স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে দ্রুত অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ করে সংযোগ সড়কের নির্মাণকাজ শুরু করা। প্রকল্পের নকশা, জমি অধিগ্রহণের প্রস্তুতি এবং বাস্তবায়নে কোনো প্রশাসনিক শিথিলতা বা অবহেলা ছিল কি না, তা তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা।
উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্দেশ্য কেবল অবকাঠামো দাঁড় করানো নয়, বরং তা মানুষের কল্যাণে ব্যবহার নিশ্চিত করা। প্রায় পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি একটি সেতু সংযোগ সড়কের অভাবে মই বেয়ে ওঠার প্রহসনে পরিণত হবে, এমনটা কখনোই কাম্য নয়। মতলব উত্তরের ২৫ হাজার মানুষের ভোগান্তি নিরসনে কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে, এটাই প্রত্যাশা।
See why other supporters are signing, why this petition is important to them, and share your reason for signing (this will mean a lot to the starter of the petition).
This petiton does not yet have any updates
At 3,000 signatures, this petition becomes one of the top signed on amarabedon.com!
By signing you are agree to the followingTerms & Condition and Privacy Policy.
Reasons for signing.
See why other supporters are signing, why this petition is important to them, and share your reason for signing (this will mean a lot to the starter of the petition).