সশস্ত্র পাহারায় বালু লুট,চকরিয়ায় কি কোনো প্রশাসন নেই?
০ স্বাক্ষরলক্ষ্য ৩,০০০
-
যাঁর কাছে আবেদন
Dr. Dipu Moni
-
শুরু করেছেন ·
Moushumi Hamid
কেন এটি জরুরি
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় পাহাড়ি ছড়া ও ফসলি জমি উজাড় করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের যে দুর্ধর্ষ চিত্র দেখা গেল, তা পরিবেশ ধ্বংসের ভয়াবহতাকে আবারও সামনে এনেছে। ড্রেজার ও শ্যালো মেশিন দিয়ে ছড়ার বুক চিরে বালু তুলে ২০০ ফুট চওড়া খাল বানিয়ে ফেলা হচ্ছে—এই পুরো প্রক্রিয়া চলছে একদল সশস্ত্র বাহিনীর পাহারায়। স্পষ্ট প্রতীয়মান হয়, একটি সন্ত্রাসী বাহিনী এ অপরাধের সঙ্গে যুক্ত। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতেই হবে।
প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, চকরিয়ার উত্তর হারবাংয়ের ইছাছড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনকে তোয়াক্কা না করেই সেখানে যন্ত্রের ব্যবহার চলছে। নিয়ম অনুযায়ী পাহাড়ি এলাকায় কেবল ঝুড়ি-বেলচা দিয়ে বালু তোলার কথা থাকলেও বাস্তবে এক্সকাভেটর দিয়ে ফসলি জমি খুঁড়ে ৫০ ফুট গভীর গর্ত করা হচ্ছে। এ কারণে ছড়ার দুই তীর ধসে পড়ছে এবং স্থানীয় বাস্তুসংস্থান ধ্বংসের মুখে।
উদ্বেগের বিষয় হলো এই বালুদস্যুরা এতটাই বেপরোয়া যে তথ্য সংগ্রহ করতে যাওয়া সংবাদকর্মীদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালিয়ে তাঁদের পানিতে ডুবিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। সাংবাদিকদের ওপর এই হামলা প্রমাণ করে যে বালুখেকো এ সন্ত্রাসী গোষ্ঠী কতটা বেপরোয়া।
চকরিয়ায় ইজারা প্রথার নামে যে ‘সাব-লিজ’ বা উপ-ইজারার সংস্কৃতি চলছে, তা সম্পূর্ণ অবৈধ। মূল ইজারাদার দায় এড়িয়ে বলছেন তিনি অন্যকে চুক্তি দিয়েছেন, আর সেই তথাকথিত রাজনৈতিক পরিচয়ধারী ব্যক্তিরা সশস্ত্র বাহিনী দিয়ে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রেখেছেন। প্রশাসন যেখানে বলছে উপ-ইজারা দেওয়ার কোনো নিয়ম নেই, সেখানে দিনের পর দিন ট্রাকপ্রতি চাঁদা তুলে এই অবৈধ কাজকে ‘বৈধতা’ দেওয়ার চেষ্টা চলছে কোন খুঁটির জোরে?
তহশিলদার থেকে শুরু করে জেলা প্রশাসক পর্যন্ত সবাই ‘ব্যবস্থা নেওয়ার’ আশ্বাস দিচ্ছেন ঠিকই, কিন্তু মাঠপর্যায়ে তার প্রতিফলন ঘটছে না। ভূমি অফিস ও পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের চোখের সামনে দিয়ে প্রতিদিন শত শত ডাম্প ট্রাক বালু নিয়ে যাচ্ছে, অথচ তাঁরা কার্যকর কিছুই করছেন না। তাঁদের নির্বিকার মনোভাব দেখে মনে হতে পারে তাঁরা বরং এই বালু লুটে উৎসাহিতই করছেন।
আমরা মনে করি, ইছাছড়ি গ্রামের কেবল নামমাত্র জরিমানা বা লোকদেখানো অভিযান যথেষ্ট নয়। এই সশস্ত্র বালুদস্যু চক্রের প্রধান এবং তাদের নেপথ্যে থাকা তথাকথিত রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে। একই সঙ্গে ইজারার শর্ত ভঙ্গের দায়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ইজারা বাতিল করে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
সাম্প্রতিক সমর্থক
এখনো কোনো স্বাক্ষর নেই। প্রথম স্বাক্ষরটি আপনিই করুন।
ফৌজদারি বিচার বিভাগের আরও আবেদন
-
-
ফৌজদারি বিচার
পুলিশ কর্মকর্তাকে পিটিয়ে হত্যা,মাদক নিয়ন্ত্রণে জোরালো পদক্ষেপ নিতে হবে!
০ জন স্বাক্ষর করেছেন
-