শিল্পের অক্সিজেন হাসপাতালে,কঠোরভাবে প্রতিরোধ করতে হবে
0 signaturesof 3,000
-
Petition to
Tarique Rahman
-
Started by ·
Tanzil Hasan
Why this matters
সম্প্রতি চট্টগ্রাম নগরের আকবর শাহ এলাকায় ভোক্তা অধিকার ও ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অভিযানে শিল্পকারখানার অক্সিজেন হাসপাতালে যাওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। পুরোনো সিলিন্ডারে ভর্তি করে রং করে এই অক্সিজেন পাঠানো হতো বেসরকারি হাসপাতালে। চিকিৎসা খাতে অক্সিজেনের লক্ষ্য যেখানে রোগীর জীবন দান করা, সেখানে হাসপাতালে শিল্পকারখানার অক্সিজেন দেওয়া রীতিমতো আমাদের জন্য ‘মৃত্যুফাঁদ’। সাম্প্রতিক হামের প্রাদুর্ভাব যেভাবে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাত ও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকিকে উন্মোচিত করেছে, সেখানে এ ধরনের তথ্য নাগরিক হিসেবে আমাদের উদ্বিগ্ন করে।
প্রথম আলোর প্রতিবেদন থেকে আরও জানা যাচ্ছে, সিলিন্ডারের রং দেখে বোঝা যাচ্ছে না, কোনটা হাসপাতালে ব্যবহারের জন্য এবং কোনটা শিল্পকারখানায় ব্যবহারের জন্য। অধিকাংশ বোতলের গায়ে জং ধরা ও রং উঠে যাওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এমন অনেক অক্সিজেন বিক্রির তথ্য পাওয়া গেছে, যার বিশুদ্ধতা ৮০ শতাংশও নয় এবং অনেক কম দামে এই অবিশুদ্ধ অক্সিজেন বিক্রি করা হচ্ছে।
হাসপাতালে ব্যবহৃত মেডিক্যাল অক্সিজেন এবং শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত ইন্ডাস্ট্রিয়াল অক্সিজেনের মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মেডিক্যাল অক্সিজেনে নাইট্রোজেন, কার্বন মনোক্সাইড, কার্বন ডাই-অক্সাইড, আর্দ্রতা ও অন্যান্য ক্ষতিকর উপাদানের উপস্থিতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত অক্সিজেনে প্রায় ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত অক্সিজেন থাকলেও এতে কার্বন মনোক্সাইডসহ বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর গ্যাসের উপস্থিতি থাকতে পারে বলে তাঁরা জানিয়েছেন। শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত অক্সিজেন দিয়ে ধাতু কাটা ও শিল্প উৎপাদনের কাজে ব্যবহৃত হয় এবং এ ধরনের অক্সিজেন মানবদেহে নানা রোগ সংক্রমিত করতে পারে।
ইন্ডাস্ট্রিয়াল অক্সিজেন সরাসরি রোগীর শ্বাসপ্রশ্বাসে ব্যবহার করা হলে সংক্রমণ, ফুসফুসের ক্ষতি কিংবা অন্যান্য জটিলতা বাড়ার আশঙ্কা থাকে বলে জনস্বাস্থ্যবিদেরা জানিয়েছেন। বিশেষ করে সম্প্রতি দেশে হাম ও নিউমোনিয়ার মতো শ্বাসতন্ত্রের জটিলতায় ভোগা শিশুদের জন্য এই ভেজাল অক্সিজেন যে কতটা মারাত্মক হতে পারে, তা সহজেই অনুমেয়।
প্রথম আলোর প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, শিল্পকারখানার অক্সিজেন হাসপাতালে সরবরাহ করার জন্য একটি প্রতিষ্ঠানকে ভোক্তা অধিকার ১ লাখ টাকা জরিমানা করেছে। ঈদের বন্ধের পর ভেজাল অক্সিজেনের বিরুদ্ধে অভিযানে নামার কথা জানিয়েছে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর। কিন্তু আমরা মনে করি, জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এবং অতিমুনাফার লোভে রোগীকে মৃত্যুর মুখে ফেলে দেওয়ার এই বন্দোবস্তকে সমূলে উৎপাটন করতে হবে। কেবল জরিমানা বা সাময়িক অভিযানই এর জন্য যথেষ্ট নয়। যারা জালিয়াতি করে মানুষের জীবন নিয়ে খেলছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে। ঔষধ প্রশাসন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে নিয়মিত মনিটর করতে হবে।
Recent supporters
No signatures yet. Be the first to sign.