বাগমারার সড়কে তালগাছ,পরিবেশ রক্ষায় এক ব্যক্তির অনন্য দৃষ্টান্ত
০ স্বাক্ষরলক্ষ্য ৫,০০০
-
যাঁর কাছে আবেদন
Dr. Dipu Moni
-
শুরু করেছেন ·
Liton Ahmed
কেন এটি জরুরি
একজন সাধারণ মানুষের নীরব উদ্যোগও যে প্রকৃতির জন্য বড় আশীর্বাদ হতে পারে, বাগমারার তালগাছগুলো যেন তারই প্রমাণ। রাজশাহীর বাগমারার ভবানীগঞ্জ-বান্দাইখাঁড়া সড়কের ডালানিতলা থেকে ছোটকয়া পর্যন্ত তিন কিলোমিটার পথজুড়ে দাঁড়িয়ে থাকা প্রায় ১ হাজার ৪০০টি তালগাছ আজ শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য নয়, একজন মানুষের দীর্ঘস্থায়ী দায়বদ্ধতার সাক্ষ্য। খবরে এসেছে, এই কাজের নেপথ্যে থাকা শহিদুল ইসলাম কোনো বড় প্রকল্পের কর্মকর্তা নন, কোনো উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি নন—তিনি একটি স্কুলের ল্যাবের সাধারণ কর্মচারী।
শহিদুল ইসলামের এ কাজের সূচনা হয়েছিল প্রায় দেড় দশক আগে, ২০১০ সালে। বজ্রপাত, সড়কভাঙন, দুর্ঘটনা আর প্রকৃতির অবক্ষয়ের মতো সমস্যার বিরুদ্ধে নীরবে কিছু করার তাগিদ থেকেই তিনি তালের আঁটি সংগ্রহ শুরু করেন। নিজের সামান্য আয়ের থেকেই কিনেছেন বীজ, ঘুরেছেন গ্রাম থেকে গ্রামে। কোনো সরকারি প্রকল্প, কোনো ভাতা বা প্রণোদনা ছাড়াই তিনি রোপণ করেছেন প্রায় ১ হাজার ৭০০ তালবীজ। সময়ের সঙ্গে নষ্ট হয়েছে কিছু গাছ, কিন্তু টিকে আছে প্রায় ১ হাজার ৪০০ তালগাছ, যেগুলোর বয়স এখন ১৫ বছর।
গাছ লাগানো অনেকেরই শখ, কিন্তু বছরের পর বছর ধরে গাছকে সন্তানের মতো পরিচর্যা করেন—এমন মানুষ কম। গরু-ছাগল থেকে রক্ষা, নিয়মিত নজরদারি, সেচ, অসুস্থ গাছের বিশেষ যত্ন থেকে শুরু করে সবই করেছেন এমন এক মানুষ, যিনি নিজেই সংসার চালাতে হিমশিম খান। সামাজিক স্বীকৃতি তো দূরের কথা, শুরুতে তাঁকে ‘পাগল’ বলেও কটাক্ষ করা হয়েছে। কিন্তু সময়ই প্রমাণ করেছে, এই তথাকথিত পাগলামির মধ্যেই ছিল দূরদর্শিতা।
আজ সেই তালগাছগুলো বজ্রপাত থেকে মানুষকে রক্ষা করছে, সড়কের স্থায়িত্ব বাড়াচ্ছে, দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাচ্ছে এবং গ্রামের পথে যোগ করছে অনন্য সৌন্দর্য। সবচেয়ে বড় কথা, তাঁর কাজ নাগরিক সমাজের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে, যা আমাদের জানাচ্ছে, পরিবেশ রক্ষায় রাষ্ট্রের পাশাপাশি নাগরিক উদ্যোগ কতটা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
শহিদুল ইসলাম কোনো প্রতিদান চাননি। শুধু চান তাঁর কাজটা টিকে থাকুক। বাগমারার এই সড়ক আমাদের মনে করিয়ে দেয়, উন্নয়ন কেবল বড় বাজেট আর মেগা প্রকল্পে নয়; অনেক সময় তা জন্ম নেয় দীর্ঘমেয়াদি দায়বদ্ধতা থেকে। আমরা শহিদুল ইসলামকে সাধুবাদ জানাই।
আমরা আশা করি, প্রশাসনের সারা দেশেই এমন উদ্যোগী মানুষের কাজকে চিহ্নিত করে তা এগিয়ে নিতে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা, কারিগরি সহায়তা ও নৈতিক স্বীকৃতির মাধ্যমে। তবেই শহিদুল ইসলামের মতো নীরব মানুষের সবুজ বিপ্লব সত্যিকার অর্থে জাতীয় শক্তিতে পরিণত হবে।
সাম্প্রতিক সমর্থক
এখনো কোনো স্বাক্ষর নেই। প্রথম স্বাক্ষরটি আপনিই করুন।