শরীয়তপুরের সড়ক,জনগণের এই ভোগান্তির শেষ কোথায়?
০ স্বাক্ষরলক্ষ্য ১,০০০
-
যাঁর কাছে আবেদন
Tarique Rahman
-
শুরু করেছেন ·
Toufic Ahmed
কেন এটি জরুরি
নির্ধারিত সময়ে সড়ক ও সেতুর কাজ শেষ না হওয়ার দরুন জনগণের চরম ভোগান্তি—শরীয়তপুর-ঢাকা সড়কের নির্মাণকাজ নিয়ে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে ফুটে উঠেছে। শরীয়তপুর, মাদারীপুর, বরিশাল ও চাঁদপুরের বিভিন্ন এলাকার মানুষ এই সড়ক নিয়মিত ব্যবহার করেন। এমন ব্যস্ত সড়কের অবস্থা এতটা বেহাল যে এটা কেবল যানজটের সমস্যা সৃষ্টি করেছে তা নয়; বরং দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়িয়ে দিচ্ছে। হাজার হাজার মানুষের দৈনন্দিন এই ভোগান্তি ও ঝুঁকি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে যে ২০২০ সালে শরীয়তপুর থেকে পদ্মা সেতুর এক্সপ্রেসওয়ের নাওডোবা পর্যন্ত ২৭ কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীত করতে ১ হাজার ৬৮২ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেয় সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। পরের বছরই নির্মাণকাজ শুরু হয়। কিন্তু প্রকল্পের আওতায় ৩৪ ফুট প্রশস্ত সড়ক নির্মাণের কথা থাকলেও ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও কাজ শেষ হয়নি। দুই দফায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হওয়ায় তৃতীয় দফায় ঠিকাদার মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন করেছেন বলে জানা যাচ্ছে।
অসমাপ্ত কাজের ফলে সৃষ্ট ভোগান্তির নজিরও প্রতিবেদনে ফুটে উঠেছে। প্রতিদিন প্রায় এক হাজার যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী যানবাহন এই পথে চলাচল করে। সদর উপজেলার কোটাপাড়া এলাকায় কীর্তিনাশা নদীর ওপর নির্মিত নতুন সেতুর অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মিত না হওয়ায় এখনো পুরোনো সেতু ব্যবহার করা হচ্ছে। একইভাবে জাজিরার কাজীরহাট এলাকায় নির্মাণাধীন সেতুর কাজ আংশিক শেষ করে ফেলে রাখা হয়েছে। যাত্রীদের প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করতে যাচ্ছে।
যদিও সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ দাবি করছে, ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন না হওয়ার কারণেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে পারেনি। তবু প্রকল্প শুরুর এত বছর পরও ভূমি অধিগ্রহণের মতো মৌলিক ও প্রাথমিক জটিলতা নিরসন করতে না পারাটা হতাশাজনক। আমরা মনে করি, এটা প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতা এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতারই বহিঃপ্রকাশ। কিন্তু দিনের পর দিন এর খেসারত দিয়ে যেতে হচ্ছে সাধারণ জনগণকে।
এই প্রকল্প কবে নাগাদ শেষ হতে পারে, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষের অনিশ্চয়তা আরও হতাশাজনক। আমরা মনে করি, এই দীর্ঘসূত্রতা, সমন্বয়হীনতা এবং অনিশ্চয়তা বাংলাদেশের জনগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের সামগ্রিক প্রতিচ্ছবিরই অংশ। জনভোগান্তির কথা বিবেচনায় নিয়ে অনতিবিলম্বে ভূমি অধিগ্রহণের জটিলতার সমাধান করতে হবে। আমরা আশা করি, কর্তৃপক্ষ সুনির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে এই গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সেতুর কাজ সম্পন্ন করে জনগণকে ভোগান্তির হাত থেকে রেহাই দেবে।
সাম্প্রতিক সমর্থক
এখনো কোনো স্বাক্ষর নেই। প্রথম স্বাক্ষরটি আপনিই করুন।