জমে উঠেছে নির্বাচনী প্রচার,ইসিকে আইন প্রয়োগে কঠোর হতে হবে

প্রার্থী ও সমর্থকদের প্রচার–প্রচারণায় দেশ এখন নির্বাচনমুখী। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর নেতৃত্ব দেশের বিভিন্ন সংসদীয় আসনে সমাবেশ করছেন। এসব সমাবেশে উৎসাহ, উদ্দীপনা ও বিপুলসংখ্যক উপস্থিতি লক্ষ করা যাচ্ছে। ক্ষমতায় গেলে তাঁদের দল কী করবে, সেই প্রতিশ্রুতি দেওয়ার সঙ্গে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকেও সমালোচনায় বিদ্ধ করছেন। এসব বক্তব্য ও মন্তব্য দলীয় কর্মী–সমর্থক ছাপিয়ে ভোটারদের মধ্যেও আলোচিত হচ্ছে, উত্তাপও ছড়াচ্ছে। সব আসনেই মিছিল, সমাবেশ, মাইক ব্যবহার করে এবং ভোটারদের দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে প্রচারণা চলছে। অনেক বছর পর দেশে সত্যিকার অর্থেই নির্বাচন ঘিরে আগ্রহ ও উৎসবের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

২২ জানুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা শুরুর পর বড় কোনো সহিংসতা–অনিয়ম না হলেও কয়েকটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। খবর জানাচ্ছে, গত সোমবার পাঁচটি নির্বাচনী আসনে সংঘাতে অন্তত ৩৩ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া নির্বাচনী প্রচারে বাধা, কার্যালয় পুড়িয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে। এবার প্রচারে পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ হলেও অনেকেই তা মানছেন না। পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর অপচনশীল দ্রব্য, যেমন র‍্যাক্সিন, পলিথিন, প্লাস্টিক ব্যবহার করে ব্যানার, ফেস্টুন টানানো হচ্ছে দেদার।

আমরা মনে করি, দেশ নির্বাচনী আমেজে পুরোপুরি ঢুকে পড়লেও নির্বাচন কমিশন (ইসি) এখন পর্যন্ত সক্রিয়তা ও কঠোরতা দেখাতে পারেনি। শুধু নির্বাচনী আচরণবিধি সংস্কার করলেই হবে না, এর বাস্তবায়ন কতটা নিরপেক্ষ ও কঠোরভাবে হচ্ছে, সেটাই ইসির আস্থা অর্জনের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। এখন পর্যন্ত নির্বাচনী পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে কিংবা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটাতে পারে, এমন বড় কোনো অঘটন ঘটেনি। এ ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশনের আত্মসন্তুষ্টির কোনো সুযোগ নেই।

বিএনপি সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ করেছে, ধর্মীয় বিশ্বাস ও আবেগ ব্যবহার করে এবং আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে ভোট প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। দলটি আনসার–ভিডিপিকে নিজ থানার বাইরে নির্বাচনী দায়িত্ব প্রদানের দাবিও জানিয়েছে। অন্যদিকে দেশের বিভিন্ন জায়গায় নির্বাচনী প্রচারে বাধা, হামলা ও আচরণবিধি লঙ্ঘন করা হচ্ছে বলে ইসিতে অভিযোগ দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি।

সব দল ও প্রার্থীদের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড (সবার জন্য সমান সুযোগ) তৈরি করা একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পূর্বশর্ত। ইসিকে অবশ্যই এখন থেকেই নির্বাচনী আইনগুলো কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে। ইসিকে এটা মনে রাখা জরুরি, নির্বাচন নিয়ে ভোটারদের মধ্যে যে উৎসাহ–উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে, তার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার মূল দায়িত্ব তাদের ওপরই বর্তায়।

অতীত অভিজ্ঞতা বলে, নির্বাচনী প্রচারণাপর্বেই সবচেয়ে বেশি সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এ সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাতে কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যেতে পারে, সেদিকে সর্বোচ্চ মনোযোগ দিতে হবে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ও গণভোট বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গণতান্ত্রিক পথ তৈরির ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সন্ধিক্ষণ। ভোটাররা যাতে নিরাপদ, ভয়হীন ও উৎসবমুখর পরিবেশে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, অন্তর্বর্তী সরকারকে তা নিশ্চিত করতে হবে।

রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, নির্বাচন কমিশন, সরকার—সবার দায়িত্বশীল ভূমিকাই পারে একটি সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর নির্বাচন উপহার দিতে। প্রচারণাপর্বের শুরুতে যে উৎসবমুখর ও ইতিবাচক প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি হয়েছে, সেটা বজায় রাখতে হবে।

Reasons for signing.

See why other supporters are signing, why this petition is important to them, and share your reason for signing (this will mean a lot to the starter of the petition).

View All resone For signin

Reasons for signing.

See why other supporters are signing, why this petition is important to them, and share your reason for signing (this will mean a lot to the starter of the petition).

Recent News

This petiton does not yet have any updates

Runa Khatun

Started This Abedon.

28 January 2026   3.4 K

0 have signed. Let’s get to 2,000 !

0%
Treands

At 2,000 signatures, this petition becomes one of the top signed on amarabedon.com!

Sign This

By signing you are agree to the followingTerms & Condition and Privacy Policy.

Must see setitions

সংখ্যালঘু ভোটার,নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে

সংখ্যালঘু ভোটার,নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে

বাংলাদেশের প্রায় সব নির্বাচনের ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, ভোটের আগে ও পরে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুরা আক্রান্ত হয়েছেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনকে কেন্দ্র... Sign This
নির্বাচনে ডিজিটাল অপপ্রচার,সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে

নির্বাচনে ডিজিটাল অপপ্রচার,সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের এই সন্ধিক্ষণে দেশ যখন একটি সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ... Sign This
নির্বাচনী প্রচারপর্বে দেশ,উৎসবের পরিবেশ তৈরির দায়িত্ব সবার

নির্বাচনী প্রচারপর্বে দেশ,উৎসবের পরিবেশ তৈরির দায়িত্ব সবার

চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দের মধ্য দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটযুদ্ধ মূল পর্বে প্রবেশ করল। প্রার্থী ও... Sign This
নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ,ইসিকে সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে

নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ,ইসিকে সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ সৃষ্টি করতে...

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরও লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে হত্যা, মব সন্ত্রাস ও রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধ না হওয়ায় প্রার্থী ও ভোটারদের... Sign This
নাগরিকদের প্রস্তাবগুলো কেন ফেলে দেয় মন্ত্রণালয়

নাগরিকদের প্রস্তাবগুলো কেন ফেলে দেয় মন্ত্রণালয়

এই দেশে একসময় যেখানে সরকারি দল ও বিরোধী দলের নেতাদের আলাপ হামেশাই ফাঁস হতো। সেখানে বাকি জনগণের ব্যক্তিগত বলে কিছু... Sign This
নখদন্তহীন পুলিশ কমিশন,এমন লোকদেখানো সংস্কারের অর্থ কী?

নখদন্তহীন পুলিশ কমিশন,এমন লোকদেখানো সংস্কারের অর্থ কী?

নাগরিক সমাজ, রাজনৈতিক দল ও পুলিশ সদস্যদের দাবি উপেক্ষা করে নামমাত্র ক্ষমতা দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশের যে অনুমোদন... Sign This
পুলিশ কমিশন ও দুদক সংস্কার,পুরোনো কাঠামো অক্ষুণ্ন রাখার চেষ্টা কেন

পুলিশ কমিশন ও দুদক সংস্কার,পুরোনো কাঠামো অক্ষুণ্ন রাখার...

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রসংস্কার নিয়ে উচ্চ স্বরে যে আলোচনা ও উদ্যোগ শুরু হয়েছিল, তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ দুটি বিষয় ছিল পুলিশ... Sign This
নতুন গণতান্ত্রিক সংবিধান প্রণয়ন করতে হবে

নতুন গণতান্ত্রিক সংবিধান প্রণয়ন করতে হবে

বর্তমানে বাংলাদেশের একটি গুরত্বপূর্ন আলোচনা হচ্ছে বিদ্যমান সংবিধান সংশোধন করে ২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী গণতান্ত্রিক যাত্রা শুরু করা। একইভাবে সমোচ্চারিত... Sign This
Loading