ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিরসরাইয়ে কাঠবোঝাই ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় তিনজনের প্রাণহানির ঘটনায় সড়কে আরেকটি বিশৃঙ্খলার ঘটনা সামনে এসেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যথাযথ অনুমোদন ছাড়াই অনেকগুলো কোম্পানি স্লিপার বাস নামিয়েছে। বাসগুলো নামকাওয়াস্তে স্লিপার ও কাঠামোগতভাবে বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। অনুমোদনহীন এসব বাসের বিরুদ্ধে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। বিষয়টি সড়ক নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক।
মিরসরাইয়ের সড়ক দুর্ঘটনাটি মহাসড়কে পরিবহন থামিয়ে তল্লাশির বিষয়টিও গুরুতরভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। বন বিভাগের তল্লাশিচৌকিতে তল্লাশির জন্য কাঠবোঝাই ট্রাকটি সড়কের ওপর রাখা হয়েছিল। একটি ব্যস্ততম মহাসড়কে, যেখানে দ্রুতগতির যানবাহন চলাচল করে, সেখানে অপরিকল্পিতভাবে সড়কের ওপর গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখা কতটা বিপজ্জনক হতে পারে, তা এ দুর্ঘটনাই স্পষ্ট করে দিল। হাইওয়ে পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সড়কের ওপর গাড়ি রেখে কাগজপত্র পরীক্ষার কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। প্রশ্ন জাগে, মহাসড়কের মতো জায়গায় যানবাহন থামিয়ে তল্লাশি করার জন্য কোনো নিরাপদ বিকল্প ব্যবস্থা কি বন বিভাগ বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর নেই? সড়কের ওপর আড়াআড়ি বা বিপজ্জনকভাবে যানবাহন দাঁড় করিয়ে রাখা সরাসরি সড়ক নিরাপত্তা আইনের পরিপন্থী। এর দায় বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ওপরও বর্তায়।
অন্যদিকে কথিত স্লিপার বাসগুলোর যাত্রাপথে নানা জায়গায় দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে যাত্রী ওঠানো–নামানো নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে থাকেন যাত্রীরা। এসব বাসের গতি ও চালকের দক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন থেকে যায়। তা ছাড়া গভীর রাতে সাধারণত মহাসড়ক ফাঁকা থাকে এবং চালকেরা বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালান। দ্বিতল স্লিপার কোচের মতো ভারী যানবাহন চালানোর জন্য যে অভিজ্ঞতা ও একাগ্রতা প্রয়োজন, অনেক চালকের তা থাকে না।
মহাসড়কে প্রাণহানি কমাতে হলে কেবল তদন্ত কমিটি গঠন বা মামলা করেই দায়িত্ব শেষ করা যাবে না। তল্লাশির জন্য মহাসড়কের মূল লেনের বাইরে আলাদা ‘বে’ বা জায়গা নির্দিষ্ট করা জরুরি। বিশেষ করে রাতের বেলা পর্যাপ্ত সংকেত বা আলোর ব্যবস্থা না করে মহাসড়কে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা অপরাধের শামিল।
আমরা আশা করব, অনুমোদনহীন কথিত স্লিপার বাসের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কীভাবে এসব ঝুঁকিপূর্ণ স্লিপার বাস রাস্তায় চলার সুযোগ পায়? বাসগুলোতে এমনভাবে খোপের মতো স্লিপার সিট তৈরি করা হয়, তা যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করে। সড়কে শৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষগুলোকে এসব পরিবহনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। যাচাই–বাছাই করে যথাযথ অনুমোদন ছাড়া দ্বিতল স্লিপার বাস সড়কে চলার সুযোগ নেই। সড়কে বিশৃঙ্খলা রোধে কঠোর হতে হবে।
See why other supporters are signing, why this petition is important to them, and share your reason for signing (this will mean a lot to the starter of the petition).
This petiton does not yet have any updates
At 1,000 signatures, this petition becomes one of the top signed on amarabedon.com!
By signing you are agree to the followingTerms & Condition and Privacy Policy.
Reasons for signing.
See why other supporters are signing, why this petition is important to them, and share your reason for signing (this will mean a lot to the starter of the petition).