‘একটুর জন্য’ আটকে যায় ডিজিটাল বাংলাদেশের সরকারি সেবা

দৌড়াতে দৌড়াতে হয়তো স্টেশনে গিয়ে উপস্থিত হলেন, আশপাশের লোকজন সান্ত্বনা দিয়ে বলবে, এই ‘একটুর জন্য’ ট্রেনটা মিস করে ফেললেন, আর এক মিনিট আগে এলেই হতো। সাকিবের বল স্টাম্প ঘেঁষে চলে গেলে উইকেটকিপার মুশফিকুর রহিম দুই হাত মাথায় দিয়ে ‘ইশ্’ করে বুঝিয়ে দেন, এই ‘একটুর জন্য’ বুঝি উইকেটটা ফেলা হলো না। এমনকি তিন কেজি ওজনের কাতল মাছটি জালের ওপর দিয়ে লাফ দিয়ে পালিয়ে গেলে, হাঁটুজলে থাকা জেলেও বলে ওঠেন, আহা, এই ‘একটুর জন্য’ মাছটা জাল থেকে বেরিয়ে গেল।

একই প্রক্রিয়ায় আমাদের তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সেবাগুলোও শুধু এই ‘একটুর জন্য’ ঠিক ডিজিটাল হয়ে উঠতে পারছে না। এটা ঠিক যে তথ্যপ্রযুক্তিকে ভিত্তি করে আমাদের বেশ কিছু সেবা ডিজিটাল হয়েছে, আর্থিক খাতে হওয়া উদ্ভাবনী সেবার সুফলভোগী হয়েছে লাখ লাখ মানুষ। 

আজ থেকে এক যুগ আগেও আমরা চিন্তা করতে পারিনি, এই দেশের রাস্তায় উবার-পাঠাওর মতো সেবা থাকবে, অ্যাপে বিরিয়ানি অর্ডার করলে বাসায় পৌঁছে যাবে। তা ছিল আমাদের স্বপ্নেরও অতীত। অনলাইনে সংযুক্ত থাকা চিকিৎসক রিপোর্ট যাচাই করে রোগীর সঙ্গে কথা বলে প্রেসক্রিপশন দেবেন, সেসব আমাদের ভাবনায়ও ছিল না।

তবে একটু খেয়াল করলেই দেখা যাবে, এসব সেবার বেশির ভাগই বেসরকারি খাতের। এ কথা অনস্বীকার্য, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে নাগরিকদের জন্য সরকারি সেবা প্রদান আরও স্বচ্ছ ও আরও গতিশীল করা সম্ভব। পদে পদে যে ভোগান্তি পোহাতে হয়, দ্বারে দ্বারে যে ঘুরতে হয়, সেটিও দূর করা সম্ভব। কিন্তু এটি তখনই সর্বময়ভাবে ফলপ্রসূ হবে, যখন নাগরিকদের সশরীর সরকারি দপ্তরে যেতে হবে না। 

অন্যভাবে বলতে গেলে, কোনো ব্যক্তির মুখোমুখি হতে হবে না। সেবা প্রদানের ১০টি ধাপের মধ্যে একটি ধাপও যদি ম্যানুয়েল বা ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীল থাকে, পুরো সেবা প্রদান প্রক্রিয়ার কার্যকরিতা সেই এক ধাপেই বাধাগ্রস্ত হয়ে যেতে পারে।

দুয়েকটি উদাহরণ দেওয়া যাক। পরিচয়পত্রের তথ্য সংশোধনের জন্য অনলাইন আবেদনের সেবা চালু আছে, কিন্তু সেটি জমা দেওয়ার পর কত দিনে সংশোধিত পরিচয়পত্র পাওয়া যাবে। ধরা যাক, তা নির্ভর করবে উপজেলাপর্যায়ের কোনো কর্মকর্তার সে আবেদন যাচাই করে অনুমোদন দেওয়ার ওপর। 

সবকিছু ডিজিটাল হওয়ার পরও শুধু এই ‘একটুর জন্য’ আটকে যেতে পারে সেবার মান। এই জায়গাতে সুযোগ থাকতে পারে হয়রানির বা কালক্ষেপণের। এখানে দুর্বলতা বা দায়ভার কিন্তু ডিজিটাল–প্রক্রিয়ার নয়, দায়ভার ব্যক্তির। কিন্তু অসন্তুষ্ট গ্রাহকের ক্ষোভ ঠিকই গিয়ে পড়ে ডিজিটাল–প্রযুক্তির ওপর। দেশের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে বছর বছর লাইসেন্স বা অনুমোদন নবায়নের প্রয়োজন পড়ে। এ–জাতীয় বেশ কিছু সেবা অনলাইনের দেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়। কিন্তু সব তথ্য অনলাইনে দিয়ে আবেদন সম্পন্ন করার পর শেষে এসে যদি বলা থাকে, আবেদনের কপি বা ফি প্রদানের রসিদ প্রিন্ট করে সশরীর দপ্তরে হাজির হতে হবে, তাহলে অনলাইন আবেদন আর ততটা অর্থবহ থাকে না। 

কোথাও কোথাও আবার আবেদন জমা দেওয়ার পুরো প্রক্রিয়া অনলাইনেই হয়ে যাবে, শুধু অনুমোদন হওয়া কার্ড বা কাগজপত্র নিয়ে আসার জন্য কাউকে না কাউকে ‘একটুর জন্য’ হলেও যেতে হবে সরকারি অফিসে। আবারও সেই হয়রানির সুযোগ। কেমন জানি ডিজিটাল হলো হলো করেও একটুর জন্য আর হয়ে ওঠে না।

এটা ঠিক যে কিছু কিছু সংবেদনশীল সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে সশরীর উপস্থিত হতে হয়। বায়োমেট্রিক ডেটা প্রদান কিংবা নিরাপত্তা বিবেচনায় সেসব সেবার ক্ষেত্রে দপ্তরে না যাওয়াটাই বরং অগ্রহণযোগ্য। কিন্তু অন্য আর সেবাগুলোর ক্ষেত্রে যত দ্রুত সম্ভব; অনলাইনে মূল্য পরিশোধ থেকে শুরু করে ডাকযোগে কাগজপত্র আদান-প্রদানের সংস্কৃতি তৈরি করতে হবে। অন্যথা সেই সেবাকে ডিজিটাল দাবি না করাই উত্তম।

আমেরিকান, জাপানিজ ও বাংলাদেশি তিন বন্ধু গল্প করতে বসেছে। আমেরিকান বন্ধু বলল, ‘আমার দেশ এমন এক রকেট বানিয়েছে, যেটি একেবারে আকাশের সঙ্গে ঘেঁষে ঘেঁষে ওড়ে।’ জাপানিজ ও বাংলাদেশি বন্ধু অবাক হয় চোখ কপালে তুলে বলল, ‘আকাশের সঙ্গে ঘেঁষে ঘেঁষে ওড়ে?’ আমেরিকান বন্ধু তৃপ্তির হাসি মুখে নিয়ে জবাব দিল, ‘একেবারে ঠিক আকাশ ঘেঁষে নয়, তার একটু নিচ দিয়ে ওড়ে।’ 

এরপর জাপানিজ বন্ধুর পালা। সে বলল, ‘আমার দেশ এমন এক সাবমেরিন বানিয়েছে, যেটি একেবার মহাসমুদ্রের তলদেশ ঘেঁষে ঘেঁষে চলে।’ আমেরিকান ও বাংলাদেশি বন্ধু অবাক হয় চোখ কপালে তুলে বলল, ‘তলদেশ ঘেঁষে ঘেঁষে চলে?’ জাপানিজ বন্ধু পরিতৃপ্তির হাসি মুখে নিয়ে বলল, ‘একেবারে ঠিক তলদেশ ঘেঁষে ঘেঁষে নয়, তার একটু ওপর দিয়ে চলে।’

তাদের দুজনের কথা শুনে বাংলাদেশি বন্ধু বলল, ‘আমাদের দেশের লোকজন নাক দিয়ে ভাত খায়।’ আমেরিকান ও জাপানিজ বন্ধু তাজ্জব হয়ে জিজ্ঞাসা করল, ‘বলো কী? নাক দিয়ে ভাত খায়?’ বাংলাদেশি বন্ধু মুচকি হেসে জানাল, ‘একেবারে ঠিক নাক দিয়ে নয়, তার একটু নিচ দিয়ে খায়।’ আমরা আর নাক দিয়ে ভাত খাওয়ার গল্প করতে চাই না। ‘একটুর জন্য’ আটকে থাকা ডিজিটাল বাংলদেশও চাই না। বরং আরেকটু পরিকল্পনা ও প্রচেষ্টা বাড়ালেই যে অর্থপূর্ণ ডিজিটাল সেবা পাওয়া সম্ভব, আমরা সেটি চাই, সত্যিকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ চাই।

Reasons for signing.

See why other supporters are signing, why this petition is important to them, and share your reason for signing (this will mean a lot to the starter of the petition).

View All resone For signin

Reasons for signing.

See why other supporters are signing, why this petition is important to them, and share your reason for signing (this will mean a lot to the starter of the petition).

Recent News

This petiton does not yet have any updates

Humayon Ahmed

Started This Abedon.

09 April 2024   4.6 K

0 have signed. Let’s get to 500,000 !

0%
Treands

At 500,000 signatures, this petition becomes one of the top signed on amarabedon.com!

Sign This

By signing you are agree to the followingTerms & Condition and Privacy Policy.

Must see setitions

মহাসড়কে ভোগান্তির শঙ্কা,ঈদযাত্রায় আগাম প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনা জরুরি

মহাসড়কে ভোগান্তির শঙ্কা,ঈদযাত্রায় আগাম প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনা জরুরি

প্রতিবছর দুই ঈদে রাজধানী ঢাকা থেকে কমবেশি এক কোটি মানুষ স্বজনদের সঙ্গে উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করতে বাড়ি ফেরেন। আনন্দের এই... Sign This
আন্তর্জাতিক নারী দিবস,আইনি বৈষম্য কমাতে জোর পদক্ষেপ চাই

আন্তর্জাতিক নারী দিবস,আইনি বৈষম্য কমাতে জোর পদক্ষেপ চাই

নারী ও পুরুষের সমতার বিশ্ব গড়ার পথে একটি বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়ে আছে বৈষম্যমূলক আইন। দুঃখজনক হলেও সত্যি, একবিংশ শতকের... Sign This
গরমে লোডশেডিংয়ের শঙ্কা,সরকারকে অবশ্যই কার্যকর পথ খুঁজতে হবে

গরমে লোডশেডিংয়ের শঙ্কা,সরকারকে অবশ্যই কার্যকর পথ খুঁজতে হবে

গ্রীষ্ম মৌসুমে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করাটা নতুন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। উত্তরাধিকার সূত্রেই জ্বালানিসংকট ও বিশাল বকেয়ার বোঝা বহন... Sign This
অনিশ্চয়তায় হাজারো কৃষক,ভবদহে জলাবদ্ধতা নিরসনে ব্যবস্থা নিন

অনিশ্চয়তায় হাজারো কৃষক,ভবদহে জলাবদ্ধতা নিরসনে ব্যবস্থা নিন

যশোরের ভবদহ অঞ্চলের জলাবদ্ধতা আর মৌসুমি দুর্ভোগের গল্প নতুন নয়। তবু প্রতিবছর বর্ষা শেষে যখন বিলভর্তি পানি আর ডুবে থাকা... Sign This
ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া মহাসড়ক,দুর্ঘটনার আগেই গাছের গুঁড়ি সরান!

ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া মহাসড়ক,দুর্ঘটনার আগেই গাছের গুঁড়ি সরান!

জাতীয় মহাসড়কগুলো দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। এই সড়কে সামান্য অব্যবস্থাপনাও বড় বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারে। খবরে এসেছে, ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া মহাসড়কের... Sign This
টিলা কেটে মাটি বিক্রি,লোহাগাড়ায় প্রশাসনকে কঠোর হতে হবে

টিলা কেটে মাটি বিক্রি,লোহাগাড়ায় প্রশাসনকে কঠোর হতে হবে

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার পুটিবিলা ইউনিয়নে অবস্থিত ‘কালুনির বর পাহাড়’ নামের সরকারি টিলাকে ধাপে ধাপে কেটে ফেলা হচ্ছে। খবরে এসেছে, রাতের আঁধারে... Sign This
রমজানে বাজার নিয়ন্ত্রণ,পণ্য পর্যাপ্ত, দামের লাগাম টেনে ধরতে হবে

রমজানে বাজার নিয়ন্ত্রণ,পণ্য পর্যাপ্ত, দামের লাগাম টেনে ধরতে...

রহমত ও সংযমের মাস পবিত্র রমজান কড়া নাড়ছে। প্রতিবছর এ সময় আসার আগে সাধারণ মানুষের মনে একটিই বড় উদ্বেগ থাকে—বাজারের... Sign This
নীরব এলাকায় হর্ন নিষিদ্ধ,বাস্তবায়নে ডিএমপিকে মনোযোগী হতে হবে

নীরব এলাকায় হর্ন নিষিদ্ধ,বাস্তবায়নে ডিএমপিকে মনোযোগী হতে হবে

রাজধানী ঢাকাবাসীর জীবনে শব্দদূষণ অনেক আগেই বড় ধরনের ঝুঁকিতে রূপ নিয়েছে। ঢাকার ব্যস্ত সড়কে অকারণে হর্ন বাজানো যেন এক স্বাভাবিক... Sign This
বাংলাদেশে ‘ডিজিটাল নাগরিকত্ব’ নিয়ে বিভ্রান্তি কেন?

বাংলাদেশে ‘ডিজিটাল নাগরিকত্ব’ নিয়ে বিভ্রান্তি কেন?

একটা প্রশ্ন দিয়েই শুরু করি। স্মার্টফোন হাতে পেয়েই আমরা সবাই নিজেকে ডিজিটাল পরিসরের একজন সক্রিয় নাগরিক বলে ভাবতে শুরু করেছি।... Sign This
খাগড়াছড়ির দুর্গম অঞ্চল,ভোটাররা যেন কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেন

খাগড়াছড়ির দুর্গম অঞ্চল,ভোটাররা যেন কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেন

খাগড়াছড়ির পাহাড়ি জনপদে ভোটাধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে উঠেছে দূরত্ব, খরচ আর ঝুঁকির কঠিন সমীকরণ। খবরে এসেছে, খাগড়াছড়ির প্রত্যন্ত... Sign This
Loading