প্রধান অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সীমান্ত পেরিয়ে পালিয়ে যাওয়াসহ নানা কারণেই শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়ে তাঁর অনুসারীদের সংক্ষুব্ধ থাকাটা স্বাভাবিক। নিয়মতান্ত্রিকভাবে তাঁরা তাঁদের দাবি জানাতেই পারেন। কিন্তু জাতীয় নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে ইনকিলাব মঞ্চের কর্মসূচি ঘিরে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন সংলগ্ন এলাকা এবং শাহবাগে পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা একই সঙ্গে অপ্রত্যাশিত ও উদ্বেগজনক।
এ ছাড়া সরকারি চাকরিজীবীদের পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবি ঘিরেও প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ঘেরাও ও সংঘর্ষের ঘটনাতেও উদ্বিগ্ন না হওয়ার কোনো কারণ নেই। রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল এই সময়ে যেকোনো আন্দোলন ও সংঘাত নির্বাচনের পরিবেশের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। চব্বিশের গণ–অভ্যুত্থানে ছাত্র–জনতার আত্মত্যাগ বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক পথে নিয়ে যাওয়ার বড় সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। আমরা মনে করি, জন–আকাঙ্ক্ষার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়েই সরকার, পুলিশ, আন্দোলনকারী সব পক্ষকেই সংযত ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার এক দিন পর ১২ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদির মাথায় খুব কাছ থেকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। পরে সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। গত ১২ জানুয়ারি হাদি হত্যা মামলার অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। খবর জানাচ্ছে, হাদি হত্যার তদন্ত জাতিসংঘের অধীন করার দাবি জানিয়ে গত বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা–সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান নেন ইনকিলাব মঞ্চের কয়েকজন নেতা–কর্মী। শুক্রবার দুপুরে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন এলাকার সামনে থেকে মঞ্চের নেতা–কর্মীদের সরিয়ে দিতে গেলে সংঘর্ষ শুরু হয়। দুপুর থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত দফায় দফায় সংঘর্ষ চলে। পুলিশ লাঠিপেটা, কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়ে। সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন।
উদ্বেগজনক বিষয় হচ্ছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই সংঘর্ষ ঘিরে নানা ধরনের মিথ্যা ও অতিরঞ্জিত তথ্য ছড়ানো হয়, যা বিক্ষোভকে উসকে দিতে ভূমিকা রাখে। অন্তর্বর্তী সরকার এক বিবৃতিতে জাতিসংঘের অধীন হাদি হত্যার তদন্ত পরিচালনার আইনগত দিক গভীরভাবে পর্যালোচনা করছে উল্লেখ করে আজ রোববার জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে চিঠি দেওয়া হবে বলে জানায়। সরকার যেখানে উদ্যোগ নিচ্ছে, সেখানে আন্দোলনকারীদের ধৈর্য ধরাটাই সমীচীন বলে আমরা মনে করি। শুক্রবারের সংঘর্ষের সময় পুলিশের বিরুদ্ধে সাংবাদিক নির্যাতন ও অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের যে অভিযোগ উঠেছে, তার তদন্ত সরকারকে করতে হবে।
সরকারের শেষ সময়ে এসে সরকারি চাকরিজীবীদের একাংশের পে কমিশন বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলনের যৌক্তিকতা নিয়ে বড় প্রশ্ন থেকে যায়। অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত পে কমিশন সবে তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। সুপারিশ বাস্তবায়নের উপায় এবং অর্থায়নের উৎস কী হবে, পর্যালোচনার জন্য সরকার একটি কমিটি করার কথা বলেছে। এরপরও সরকারকে চাপ দিয়ে দাবি আদায়ের এই পথ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
রাজনৈতিকভাবে বাংলাদেশ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। একটি অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরই পারে দেশকে গণতান্ত্রিক পথে অগ্রসর করতে। বিচ্ছিন্ন কিছু সহিংসতা ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ থাকার পরও সারা দেশে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। ভোটাররাও অধীর আগ্রহে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য অপেক্ষা করছেন। নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল এই সময়ে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।
See why other supporters are signing, why this petition is important to them, and share your reason for signing (this will mean a lot to the starter of the petition).
This petiton does not yet have any updates
At 3,000 signatures, this petition becomes one of the top signed on amarabedon.com!
By signing you are agree to the followingTerms & Condition and Privacy Policy.
Reasons for signing.
See why other supporters are signing, why this petition is important to them, and share your reason for signing (this will mean a lot to the starter of the petition).