বরিশাল নগরের ব্যস্ত পোর্ট রোডে সরকারি অর্থে নির্মিত সড়কের মাঝখানে একটি দোকান রেখে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনা শুধু অদ্ভুত নয়, প্রশাসনিক দায়িত্ববোধ নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তোলে। দেখা যাচ্ছে, ৭ কোটি ৪২ লাখ টাকা ব্যয়ে সংস্কারকাজ চলছে। সড়কের দুই পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হলেও একটি দোকানঘর রাখা হয়েছে সড়কের ভেতরেই। আরও বিস্ময়কর, দোকানটি বিআইডব্লিউটিএর মালিকানাধীন এবং একজন ব্যবসায়ীকে সেটি ভাড়া দেওয়া।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য, ব্যবসায়ীর জীবিকার কথা বিবেচনা করে দোকানটি সরানো হয়নি। প্রশ্ন হলো, একজন ব্যবসায়ীর স্বার্থ কি একটি ব্যস্ত সড়ক ব্যবহারকারী হাজারো মানুষের স্বার্থের চেয়ে বড়? সরকারি প্রকল্পের অর্থ কি কোনো ব্যক্তির সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য ব্যয় করা হচ্ছে? যদি দোকানটি রেখে সড়ক নির্মাণ করা হয়, তাহলে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হবে। ভবিষ্যতে দোকান সরাতে হলে সদ্য নির্মিত সড়ক ভাঙতে হবে। অর্থাৎ একটি ব্যক্তিগত সুবিধার খেসারত দিতে হবে জনগণকে এবং অপচয় হবে সরকারি অর্থের।
এখানে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, কর্মকর্তারা বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন। একজন ভাড়াটের স্বার্থকে গুরুত্ব দিতে গিয়ে যদি সরকারি সম্পদ ও জনস্বার্থকে উপেক্ষা করা হয়, তবে তা প্রশাসনিক অনিয়মের একটি বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত। আজ একজনকে এ সুবিধা দেওয়া হলে কাল অন্যরাও একই দাবি করবেন। তখন আইন ও বিধির বদলে ব্যক্তির প্রভাবই হয়ে উঠবে সিদ্ধান্তের ভিত্তি। এভাবেই একটি প্রতিষ্ঠানের ভেতরে বিশৃঙ্খলা ও অনিয়মের সংস্কৃতি তৈরি হয়।
পোর্ট রোডের মতো ব্যস্ত সড়কে যেখানে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমাতে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে, সেখানে এমন সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দোকানটি অবিলম্বে সরিয়ে প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী সড়কের কাজ শেষ করা উচিত। একই সঙ্গে কেন একটি স্থাপনাকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হলো, তা তদন্ত করতে হবে।
জনস্বার্থ উপেক্ষা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের শুধু সতর্ক করলেই হবে না, জবাবদিহির আওতায় এনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। কারণ, সরকারি অর্থে নির্মিত সড়ক কারও ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য নয়। কোটি কোটি টাকা খরচ করে এমন অবকাঠামো নির্মাণের অর্থই হলো জনগণের চলাচল সহজ করা। সেখানে যদি একজনের স্বার্থকে জনস্বার্থের চেয়ে বড় করে দেখা হয়, তবে সেই প্রকল্পের উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হয়।
পোর্ট রোডের ঘটনাটি শুধু একটি দোকান সরানোর বিষয় নয়; এটি সরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, প্রশাসনিক নৈতিকতা এবং জনস্বার্থের প্রতি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের দায়বদ্ধতার পরীক্ষা। এ পরীক্ষায় কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই জনস্বার্থের পক্ষে দাঁড়াতে হবে।
See why other supporters are signing, why this petition is important to them, and share your reason for signing (this will mean a lot to the starter of the petition).
This petiton does not yet have any updates
At 5,000 signatures, this petition becomes one of the top signed on amarabedon.com!
By signing you are agree to the followingTerms & Condition and Privacy Policy.
Reasons for signing.
See why other supporters are signing, why this petition is important to them, and share your reason for signing (this will mean a lot to the starter of the petition).